অনলাইনে ফ্রিল্যান্সিং করা কিংবা নিজের ঘরে বসেই বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জন করার ইচ্ছা আমাদের মধ্যে অনেকেরই। কিন্তু চাইলেই তো আমরা ফ্রিল্যান্সিং করতে পারবোনা। তার জন্য প্রয়োজন রয়েছে সঠিক পথ বাছাই করা। তাছাড়াও প্রয়োজন রয়েছে সময় ও ধৈর্যের ।

এই পোস্টে আমি আপনাকে পাঁচটি সঠিক পথ সম্পর্কে জানাবো, যা আপনার ফ্রিল্যান্সিং অগ্রযাত্রায় আপনাকে সাহায্য করবে।

Number 1 : Google Adsense

গুগল সম্পর্কে পরিচিত আমরা সবাই । কিন্তু হয়তো গুগল এডসেন্স সম্পর্কে আপনারা সবাই পরিচিত না । গুগল অ্যাডসেন্স হলো গুগলের একটি নিজস্ব এডভার্টাইজিং মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম, যার মাধ্যমে মানুষ তার প্রতিষ্ঠানের যে কোন প্রোডাক্ট কিংবা নিজস্ব কোন সার্ভিসের বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকে । তাছাড়াও যেকোনো ধরনের বুষ্টিং ক্যাম্পেইন কিংবা কোন প্রমোশন এর কাজ করে থাকে।
এখন কথা হচ্ছে গুগল এডসেন্স কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং এর একটি সঠিক পথ হতে পারে ?
গুগল অ্যাডসেন্সের মাধ্যমে যেমন কোন প্রতিষ্ঠানের প্রডাক্ট বা সার্ভিসের বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকে বিভিন্ন বিজ্ঞাপনদাতারা, ঠিক তেমনি এই বিজ্ঞাপনগুলো প্রচার-প্রচারণা করার জন্য রয়েছে বিভিন্ন পাবলিশার্স। যারা এ বিজ্ঞাপন গুলোকে তাদের নিজস্ব মিডিয়া কিংবা ওয়েবসাইটে পাবলিশ করে প্রচার করে। এবং এর বিনিময় পাবলিশাররা বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছ থেকে গুগল এডসেন্স এর মাধ্যমে কিছু টাকা আদায় করতে পারে।
গুগোল অ্যাডসেন্সে আমরা কাজ করব একজন পাবলিশার হিসেবে। অর্থাৎ আমরা বিভিন্ন বিজ্ঞাপনগুলো আমাদের নিজস্ব মিডিয়া কিংবা ওয়েবসাইটগুলোতে প্রচার করব।
সুতরাং গুগল এডসেন্স এ কাজ করতে গেলে আমাদের প্রয়োজন নিজেদের একটি মিডিয়া কিংবা ওয়েবসাইট । অর্থাৎ আমাদেরকে শিখতে হবে কিভাবে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করা যায় ও কিভাবে সেখানে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন বা এসইও করে ট্রাফিক জেনারেট করা যায়। এক্ষেত্রে বলা যায়, যত বেশি অডিয়েন্স কিংবা জনগণ আমাদের মিডিয়াতে সংযুক্ত থাকবে, ততো বেশি পরিমাণে ইনকাম করা সম্ভব এই গুগল এডসেন্স এর মাধ্যমে ।

Number 2 : Affiliate Marketing

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হল একটি কমিশন ভিত্তিক টাকা উপার্জনের মাধ্যম । এখানে আপনার নিজস্ব কোন প্রোডাক্টের প্রয়োজন নেই । প্রয়োজন নেই নিজস্ব কোন দোকান কিংবা কোন প্ল্যাটফর্মের। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করতে হলেও আপনাকে অনেক কিছু জানতে হবে ও শিখতে হবে । কারণ এখানে রয়েছে – নিস সেলেকশন, নিস অথরিটি, মার্কেট সিলেকশন, প্রডাক্ট সিলেকশন, সেলস ফানেল, ট্রাকিং, মনিটরিং এবং আরও অনেক কিছু।
আমরা আশেপাশে বিভিন্ন দোকানদার কিংবা শোরুমের ম্যানেজারকে দেখে থাকবো, বিভিন্ন ব্র্যান্ড কিংবা নন-ব্র্যান্ড কোম্পানির প্রোডাক্ট বিক্রি করতে। তারপর এগুলো বিক্রি করে সেই ব্র্যান্ডে বা নন ব্র্যান্ড কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে কমিশন আদায় করে নেয়। ঠিক একইভাবে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের ক্ষেত্রে আমাদেরকে অনলাইনে নিজের ঘরে বসেই বিভিন্ন ব্র্যান্ড কিংবা নন-ব্র্যান্ড কোম্পানিগুলোর প্রোডাক্ট গুলো বিক্রি করে দিতে হবে। এক্ষেত্রেও আমাদেরকে কমিশন ভিত্তিক উপার্জন করতে হবে।
উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, একটি ই-কমার্স সাইট থেকে যেকোনো প্রডাক্টের অ্যাফিলিয়েট লিংক নিয়ে সে প্রোডাক্টগুলো অনলাইনে মার্কেটিং কিংবা বিক্রি করলে, সে প্রোডাক্ট এর উপর ভিত্তি করে একটি নির্দিষ্ট কমিশন আপনার একাউন্টে যোগ হবে। এভাবেই আপনি অনলাইনে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর মাধ্যমে প্রচুর পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জন করতে পারবেন।
আমার কথা শুনে যদি আপনার এই কাজটি সহজ মনে হয় তাহলে বলে রাখা ভালো যে কাজটি ভালো করে শিখতে হলে আপনাকে অবশ্যই প্রচুর পরিমানে ধর্য্য ধরতে হবে ও সময় ব্যয় করতে হবে।

Number 3 : CPA Marketing

অনলাইন জগত কিংবা ফ্রীল্যান্সিং জগতে সবচাইতে সহজ ও দ্রুত মাধ্যমে, অনলাইন থেকে নিজের ঘরে বসে প্রচুর পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জন করা সম্ভব সিপিএ মার্কেটিং এর মাধ্যমে।
সিপিএ মার্কেটিং কিংবা Cost Per Action, এ কাজটিও অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর মত কমিশন ভিত্তিক কাজ । কিন্তু এক্ষেত্রে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর মত কোন প্রোডাক্ট বিক্রয় করার কোন প্রয়োজন এখানে নেই , শুধুমাত্র অফার প্রমোট করে কিংবা কোন অফারের একটি মাত্র টার্গেট পূরণ করেই আয় করা সম্ভব হাজার হাজার বৈদেশিক মুদ্রা ।
সিপিএ মার্কেটিং বাংলাদেশের মধ্যেও একটি জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্সিং মাধ্যম। বাংলাদেশের হাজার হাজার সিপিএ মার্কেটাররা উপার্জন করছে লক্ষ লক্ষ বৈদেশিক মুদ্রা।
কোন একটি নির্দিষ্ট দেশের বিভিন্ন মানুষের ইমেইল কালেক্ট করা, কিংবা তাদের ফোন নাম্বার কালেক্ট করা, ইমেইল মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে অফার সেন্ড করা, এসএমএস মার্কেটিং এর মাধ্যমে অফার সেন্ড করা , অথবা কোন লিড জেনারেট করে কমিশন ভিত্তিক উপার্জন করা। এসব কাজ সিপিএ মার্কেটিং এর মাধ্যমেই খুব সহজে করা সম্ভব।
বিভিন্ন সিপিএ মার্কেটিং প্লাটফর্মে অ্যাকাউন্ট খুলে সেখানে থাকা এফিলিয়েট লিংক বা স্মার্টলিংক তৈরি করে সঠিক উপায় মার্কেটিং করতে পারলে, শুধুমাত্র সিপিএ মার্কেটিং থেকেই দৈনিক 15 থেকে 20 ডলারেরও বেশি উপার্জন করা সম্ভব হবে। তবে সিপিএ মার্কেটিং করার অনেক বেশি উপায় রয়েছে এখানে সঠিক উপায় খুঁজে বের করতে আপনাকে অবশ্যই অনেক বেশি সময় ও শ্রম ব্যয় করতে হবে।

Number 4 : Fiverr

অনলাইনে টাকা উপার্জন কিংবা ফ্রিল্যান্সিং এর আরেকটি জনপ্রিয় মাধ্যম হচ্ছে ফাইবার মার্কেটপ্লেস। তবে এমনটা মনে করবেন না যে মার্কেটপ্লেসে একাউন্ট খোলা মাত্রই আপনার উপার্জন হওয়া শুরু হবে।
আসলে ফাইবার হচ্ছে একটি মার্কেটপ্লেস কিংবা একটি প্লাটফর্ম । যেখানে আপনি আপনার নিজের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে যে কোনো কম্পিউটার প্রোগ্রামার ওপর ফ্রিল্যান্সিং করতে পারবেন।
ফাইবার মার্কেটপ্লেসে আপনাকে অবশ্যই যেকোনো একটি প্রোগ্রামের উপর দক্ষ হয়ে কাজ শুরু করতে হবে। সেটি হতে পারে গ্রাফিক ডিজাইন, ওয়েব ডিজাইন কিংবা ডেভেলপমেন্ট, মোশন গ্রাফিক্স, ভিডিও এডিটিং, থ্রিডি এনিমেশন অথবা অন্য যে কোন কাজ।
যদি তেমন কোন প্রোগ্রামের উপর আপনার অভিজ্ঞতা না থাকে, তাহলেও আপনি ডাটা এন্ট্রি, ভয়েজ ওভার, কিংবা – বেসিক ফটো এডিটিং এর মত সহজ কাজ করেও ফাইবারে কাজ করা শুরু করতে পারেন।
তবে একটা কথা অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে, যে ফাইবার মার্কেটপ্লেস এ কাজ করতে হলে সবার আগে ফাইবার মার্কেটপ্লেস এর সঠিক নিয়ম কানুন গুলো জেনে নিতে হবে। অন্যথায় আপনার একটি সামান্য ভুলের কারণে আপনার ফাইবার একাউন্টটি যেকোনো সময় ব্যান হয়ে যেতে পারে।
আমি ফাইবার একাউন্ট এর নিয়ম কানুন বা অন্য যেকোনো ফ্রিল্যান্সিং টিপস নিয়েও ভিডিও আপলোড করব। সুতরাং আমাদের ওয়ার্ক লাইনারস কমিউনিটির চ্যানেলটিকে এখনই সাবস্ক্রাইব করে নিন। এবং পাশের নোটিফিকেশনটি কেউ অন করে রাখবেন।

Number 5 : YouTube
( Coming Soon )

ভালো লাগলে অবশ্যই শেয়ার করুন।
ফ্রি কোর্স / সেমিনার / টিউটোরিয়াল কিংবা অন্যান্য বিষয় সম্পর্কে জানতে আমাদের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট ঘুরে আসুন। – https://worklinerit.com/

———
Thanks!
Workliner IT